কোন কাজ করতে যে হেরে যাওয়ার পর হার না মেনে সেই কাজের প্রতি আবারও একই পরিশ্রম এবং ডেডিকেশন দেখানো কে বলা হয় অধ্যাবসায়। অধ্যাবসায় নামক শব্দটা যার জীবনে রয়েছে সে আজ কোন না কোন ভাবে সফল। কারণ অধ্যাবসায় আপনাকে আপনার সফলতা এনে দিতে পারে। যাদের মাঝে অধ্যবসায় জিনিসটি আছে তারা কখনোই আলসে হয় না এবং হেরে যায় না খুব সহজেই। 

তারা তাদের কাছ থেকে সফল করার জন্য সেটার পেছনে লেগেই থাকে, এতে করে তাদের যতই কষ্ট বাধা-বিপত্তি পোহাতে হোক না কেন। এই অধ্যাবসায় যে জিনিসটি যে কোন কর্মক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আপনি যদি একজন রাজনীতিবিদ হন তাহলে তো অবশ্যই এই জিনিসটি আপনার মাঝে থাকা উচিত যেমনটা ছিল আমাদের মহান নেতা জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মাঝে। কারণ একজন রাজনীতিবিদের অনেক ধৈর্যশীল হতে হয়। 

রাজনীতিতে অনেক উঠান পথন রয়েছে, আপনি যদি প্রথমেই হেরে যান তাহলে কখনই আপনার সফল ভবিষ্যৎ আশা করতে পারেন না রাজনীতির ময়দানে।জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু যথেষ্ট ধৈর্য সহকারে রাজনীতিতে টিকে ছিলেন তাই বলে তিনি আজ এতটা সফল একজন নেতা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। আসল এটা নিয়েই আলোচনা করা যাক।

১.

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু তার অধ্যাবসায় এর এক জ্বলন্ত উদাহরণ দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সাল এর মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন সাহসী নেতা জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সংগ্রাম কমিটির কর্মকান্ড পরিচালনা করতেন নিজের পাথরঘাটাস্থ জুপিটার হাউজ থেকে, মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন সময়ে এবং এই কথা টি প্রকাশ হয়েছিলো দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের এক বিবৃতি অনুষ্ঠানে। 

বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রাম এ আসার পরে আমাদের সাহসী নেতা জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু নিজের প্রতিষ্ঠিত জুপিটার হাউজ থেকে তা সাইক্লোস্টাইল করে প্রচারণা করেন। জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর নিজ বাসা থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ বাংলাদেশের সর্বত্রই পাঠানো হয় স্বাধীনতার ঘোষণা। 

২.

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক ৪ বছর পর বাংলার মাটিতে আসে লাখো আর্তনাদ এবং চিৎকার। ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে হত্যা করা হয় বাংলার মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে। এতে বাঙালি মাটিতে এবং বাঙালি মানুষের মনে উঠে এসেছিল শোকের এক ঢেউ। ঠিক সে সময় আমাদের সাহসী নেতা জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং পরবর্তীতে দলের পুনরুজ্জীবন ও পুনর্গঠনে বেশ স্মরণীয় এবং এফেকটিভ ভূমিকা পালন করেন।‌ 

বাংলাদেশের বিশিষ্ট জেলা চট্টগ্রামে আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা ছিলেন আমাদের মহান নেতা, ১৯৭৫ সাল পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগেকে সংগঠিত করতে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর অবদান অবিস্মরণীয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু যথেষ্টভাবে আদর্শিত হয়ে উঠেছিলেন। কারণ তিনি পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরোটাই ছিলেন একজন শক্ত দেশ প্রেমিক। সোনার বাংলা গড়াই ছিল তার প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য। তারমানে অধ্যাবসায় জিনিসটি ছিল বলেই তিনি এতকিছু করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সুতরাং আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি যে সফলতা অর্জনে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু একজন অধ্যাবসায়ী নেতা।

Know more about: রাজনীতিতে সফল পথ প্রদর্শক ছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু

Add Your Comment