আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর একজন অন্যতম মুখ্য রাজনীতিবিদ এবং মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক। তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম১২ আসনের প্রতিনিধিত্বকারী সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি নেতার জীবনী নিয়ে কিছু বিস্তারিত তথ্য জেনে নেয়া যাক। 

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এর প্রাথমিক জীবন

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু  ১৯৪৫ সালের ৩রা মে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অত্যন্ত অভিজাত ধনী পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ছেলেবেলা এবং কৈশর চট্টগ্রামেই অতিবাহিত হয়। চট্টগ্রামের পটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি  ঢাকার নটর ডেম কলেজে  ভর্তি হন। কলেজে পড়াকালীন  বৃত্তি পেয়ে তিনি  যুক্তরাষ্ট্রের  ইলিনয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা প্রশাসনে থেকে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে আসেন। এরপর ১৯৬৫ সালে বড় ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসা শুরু করেন। কম বয়সেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নেয়া শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাথেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তাঁর অন্যতম অর্জন হল ১৯৭১এ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিচালনায় প্রতক্ষ্য সহযোগিতা। 

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এর রাজনৈতিক জীবন 

আখতারুজ্জামান চৌধুরী ১৯৫৮ সালে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে প্রথম আওয়ামী লীগের প্রধান কমিটিতে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের পশ্চিম পটিয়ার আনোয়ারা উপজেলার প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। আশির দশকে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে প্রবল ভূমিকা রেখেছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তাকে কারাগারে নির্যাতন করা হয়েছিল। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ সাংবিধানিক কাউন্সিলের সদস্য হন এবং বাংলাদেশের সংবিধান গঠনে সহায়তা করেছিলেন। ১৯৭২ সালের সংবিধানের স্বাক্ষরকারীদের মাঝে তিনি একজন ছিলেন। স্বাধীনতার পর আখতারুজ্জামান বাবু দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলে দলের লোকের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে তিনি দলটির পুনর্গঠনে সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি পাট বস্ত্র মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং আমরণ এ পদে বহাল ছিলেন। 

মুক্তিযুদ্ধে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এর অবদান

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে আখতারুজ্জামান চৌধুরী অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভিক কালে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন যুদ্ধ কমিটির সমস্ত কার্যক্রম পাথরঘাটায় তাঁর “বৃহস্পতি” বাড়ি থেকে পরিচালিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি চট্টগ্রামে আসার পর তার বৃহস্পতি হাউস থেকে সাইক্লোস্টাইল করা হয়েছিল। তারপর এই ঘোষনা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ সর্বত্র প্রচারিত হয়।  মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির সদস্য এর ভূমিকা পালন করেন।  মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে যেয়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলাদেশী শরণার্থীদের বিভিন্ন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে, তিনি বিশ্বের জনগণকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অভিমুখের আনার লক্ষ্যে ইউরোপ এবং আমেরিকার অনেক অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিলেন। প্রথমত তিনি লন্ডনে যান। পরবর্তীতে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে আমেরিকায় যান। তাঁকে স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সাহসী যোদ্ধা হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়। 

আখতারুজ্জামান চৌধুরী  বাবু এর ব্যবসায়িক জীবন ও অবদান

আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মুখপাত্র ও ব্যবসায়ী নেতা হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিল্পপতি এবং শিল্পোদ্যোক্তা। স্বাধীনতার আগে চট্টগ্রাম নগরীর বাটালি রোডে বয়েল ইন্ডাস্ট্রি নামে একটি কারখানা তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু আসিফ স্টিল মিল, জাভেদ স্টিল মিল, আসিফ সিন্থেটিক, পানাম ভেজিটেবল, আফরোজা অয়েল মিল, বেঙ্গল সিনথেটিক পণ্য সহ বেশকয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি একটি বিদেশি মালিকানাধীন আরমিট মিল ক্রয় করেন এবং পরবর্তীকালে আরমিট গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও তিনি ভ্যানগার্ড স্টিল মিল এবং সিনথেটিক রজন পণ্য কিনে স্বাধীনতার প্রথম দুই দশকে জামান ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপ  প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৮ সালে, তিনি শীর্ষ ব্যবসায়িক সংস্থা এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হন।তিনি ওআইসির চেম্বার অব কমার্সের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে তিনি ৭৭ জাতি গ্রুপের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশী যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাধীনতার পর তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক হিসাবে কাজ করেছেন।

ব্যাংকিং অর্থায়নে আখতারুজ্জামান চৌধুরীর বাবু এর অবদান

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু বাংলাদেশের ব্যাংকিং বিভাগের উন্নয়নেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের বেসরকারী ব্যাংকিং খাত প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা অসামান্য। বিশেষত, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ছিল তাঁর এক বিশিষ্ট অর্জন। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বেসরকারী ব্যাংক এবং আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন এর উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।  ২০১১ সালে আবারও ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং আমৃত্যু এই সম্মানের পদে বহাল থেকে দেশের আর্থিক উন্নয়নে অশেষ ভূমিকা রাখেন। 

সমাজসেবায় আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এর অবদান 

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু শুধু একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, সাথে ছিলেন এক বিশেষ সমাজসেবী এবং আলোকিত মানুষ। একজন দক্ষ ও আদর্শবান রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী হওয়ার জন্য যে দক্ষতাগুলি দরকার, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মাঝে তার সকল কিছুই উপস্থিত ছিল।  নীতি ও নৈতিকতা ছিল তাঁর অনন্য সম্পদ। বাংলাদেশের সকল মানুষের সম্মান, গর্ব, মূল্যবোধকে উন্নীত করতে তিনি তার জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছেন। তিনি অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিল্পপতি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ না নিলেও তিনি তার ব্যবসায়িক পেশায় মনোনিবেশ করে অতি স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন অতিবাহিত করতে পারতেন।  নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচয় দিতে তিনি বেশি পছন্দ করতেন কারণ তিনি দেশ ও জনগণকে ভালোবাসতেন। 

আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। জাতীয়তাবাদী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার স্বপ্ন পুনর্নির্মাণ ছিল তার রাজনৈতিক পেশায় নিয়জিত হওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ এর প্রতিমা তিনি। অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ জীবনযাপন তাঁকে জনসাধারণ এর অনেক কাছাকাছি নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি সামাজিক জীবন অতি সাধাসিধে ভাবে অতিবাহিত করতেন। প্রায়শই তাঁকে পথে সরকারী সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া সাধারণ মানুষের ন্যায় হাটতে দেখা যেত। সর্বদা বিপদ ও ঝুঁকিতে থাকা  জনগণের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর চেষ্টায় রত ছিলেন তিনি। দেশের বিশেষত চট্টগ্রামের জনসাধারণ এর জন্য তিনি ছিলেন আশ্রয়কেন্দ্র। সমাজসেবায় তাঁর বিশেষ অবদানের জন্যে তিনি রাজনীতিবিদ এর চেয়ে বরং সমাজসেবী হিসেবে জনসাধারণ এর কাছে বেশী পরিচিত। 

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন পৃষ্ঠপোষক, মানবতাবাদী ও সমাজসেবী। তাঁর প্রশাসনিক অঞ্চলে তিনি বহু দাতব্য কাজেও জড়িত ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চট্টগ্রামে। আনোয়ারা উপজেলা এবং চট্টগ্রামের পশ্চিম পটিয়ায় স্কুল এবং কলেজ ও তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ, হাইলধর বশিরুজ্জামান স্মৃতি শিক্ষা কেন্দ্র, বরুমচড়া বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, আনোয়ারা যুগেস চন্দ্র মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, ঝি.বা.শি উচ্চ বিদ্যালয় ,বটতলী মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ, চন্দনাইশ বরমা কলেজ, এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ, এ.জে.চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ, রায়পুর উপকূলীয় উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও অনেক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের বেকারত্বের হার হ্রাস করতে তিনি সহায়তা করেছিলেন। জনসেবামূলক রাজনৈতিক বিকাশে অতুলনীয় অবদানের জন্য তাঁকে চট্টগ্রামের অভিভাবক হিসেবে গণ্য করা হয়।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এর পারিবারিক জীবন

ব্যক্তিজীবনে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু তিন পুত্র ও তিন কন্যাসন্তানের জনক। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এর দ্বিতীয় কন্যা নূর নাহারুজামানকে বিয়ে করেন এবং আমৃত্যু সংসার অতিবাহিত করেন।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উক্তি

আখাতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন একজন অতি বন্ধুবৎসল মানুষ। যার কারনে তিনি ছিলেন তাঁর পরিচিতজনদের প্রিয়পাত্র। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও খুব পছন্দের মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর প্রিয়জন এবং বন্ধু সম্পর্কীয় ব্যক্তিরা সবাই তাঁকে বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন, কেননা বিপদে- আপদে অন্য কারো সাড়া পাওয়া না গেলেও তিনি সর্বদা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। 

বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ; এর সহকারী নিয়ন্ত্রক, মোঃ মাকসুদার রহমান চৌধুরী বলেন, “ আমি খুব গর্বিত ও আশীর্বাদ বোধ করছি কারণ আমি আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মতো বড় মনের ব্যক্তির সঙ্গী হওয়ার এবং যত্ন নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এত বড় নেতার পুরো জীবন বিশ্লেষণ ও কথা বলা আমার স্তরের বাইরে। তাঁর সংস্পর্শে আমি কী অভিজ্ঞতা পেয়েছিলাম তা আমাকে অবাক করে দিয়েছিল।“

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সাবেক একান্ত সচিব, আলহাজ বোরহান উদ্দিন চৌধুরী মুরাদ বলেন ;       “ আমি সৌভাগ্যবান, ধন্য আমার জীবন। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মতো এত বড় মাপের মহৎ হৃদয়বান জাতীয় নেতার সহচার্য লাভের সুযোগ হয়েছে। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন বিশ্লেষণ করা, তাঁর মতো এত বড় নেতা সম্পর্কে বলার যোগ্যতা আমার নেই। কিন্তু তাঁর সঙ্গে থেকে তাঁকে নিবিড়ভাবে দেখেছি, মিশেছি, সুখ-দুঃখের সাথি হয়েছি, যা কিছু শিখেছি, দেখেছি তা আমাকে অভিভূত করেছে।  বিশ্বস্ততার সহিত মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার অভিভাবকত্বে তার সহিত রাষ্ট্রের সেবামূলক কাজ করেছি এবং তার সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। তাকে কাছ দেখেছি, মিশেছি। সুখ, দুঃখের সঙ্গী হয়েছি। আমি দেখেছি, তার মধ্যে এক নরম প্রকৃতির হৃদয়, মানুষকে ভালবাসার উদার মন-মানসিকতা। “ 

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এর আদর্শ ব্যক্তিত্ববোধ

চট্টগ্রামের খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু বিভিন্ন সংকটময় মূহুর্তেও দলীয় আদর্শে ছিলেন দৃঢ়। অত্যন্ত আদর্শবান ব্যক্তিত্বের জন্যই তিনি বহু মানুষ এর ভালবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি স্বাধীনতা উত্তরকালের সেই সব বিরল রাজনীতিবিদদের অন্যতম, যারা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে হাল ধরেছেন, রাজনীতি নিজের অর্থ ব্যয় করেছেন। একজন সৎ ও আদর্শবান রাজনীতিক ও সমাজসেবকের যেসব থাকা উচিত, তার সমস্তই আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মধ্যে ছিল। সৃষ্টিকর্তা মানুষ সৃষ্টি করেছেন একে অপরের কল্যানের জন্য। তাই তার ব্রত ছিল মানবকল্যান, এবং তিনি তা সফলতার সাথে সম্পাদন করেছেন। সমস্ত লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়  অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে নির্মাণের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। তাই জীবনে অনেকবার মন্ত্রিত্বের সুযোগ পেয়েও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হননি। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে সংগঠন ও জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। অত্যন্ত দূরদর্শী ও বিচক্ষণ রাজনীতির ধারক ছিলেন বলেই এত দীর্ঘসময় ধরে দেশ ও দশের সেবায় নিজেকে নিয়জিত রাখতে পেরেছেন। সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর জীবনী থেকে নতুন প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে। বাংলাদেশের সর্বকালের রাজনীতিবিদদের জন্য তিনি আদর্শ স্বরূপ। 

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এর মৃত্যুবরণ 

কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পরে,  ২০১২ সালে ৪ নভেম্বর, ৬৭ বছর বয়সে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে আওয়ামী পরিবারে এক অপূরণীয় শূন্যতার তৈরি হয়। কিছু ব্যক্তি মৃত্যুবরণ এর পরেও তাদের ইতিবাচক শক্তি এবং কর্মের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করে। সে কারণেই আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু তাঁর মৃত্যুর পরেও বেঁচে আছেন। তিনি বেঁচে আছেন সাধারণ জনগণ এর অন্তরে,তাদের ভালবাসায়, শ্রদ্ধায়। 

শেষকথা

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর অন্যতম অবিসংবাদী নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান চৌধুরী এর মৃত্যু চট্টগ্রামসহ সমগ্র দেশকে করেছে অভিভাবক শূন্য। যদিও তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, তবুও তিনি আমাদের অন্তরে চির জাগ্রত থাকবেন।

Add Your Comment