আমাদের দেশ এ ফ্লাইওভার, সেতু, ওভারব্রীজ এর অভাব নেই। প্রতিদিন নানান মানুষ তাদের নানা কাজ এ যাতায়াত করে থাকে এই সেতু বা ফ্লাইওভার ব্যবহার করে। এতে তাদের সময় বাচে এবং সব কাজ দ্রুত সেড়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া জ্যামযট এর ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতেও ফ্লাইওভার এর গুরুত্ব অপরিসীম। চট্রগ্রাম এর কৃতি সন্তান, একজন আদর্শ ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ,বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও গণমানুষের অতি কাছের মানুষ জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু’র স্মরণে নির্মিত হয় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বহু প্রতীক্ষিত ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ “আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ফ্লাইওভার”!! ৬৯৭ কোটি টাকা ব্যায়ে এই ফ্লাইওভার টির গুরুত্ব ও চৌধুরী বাবুর ছোট্ট জীবনী নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা।

চট্টগ্রাম শহর –

চট্টগ্রাম হলো বাংলাদেশ এর ২য় বৃহত্তম শহর।

বন্দর নগরী নামে পরিচিত শহর, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত পাহাড়, সমুদ্রে এবং উপত্যকায় ঘেরা চট্টগ্রাম শহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে বিখ্যাত। ঢাকার পর বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ শহর হচ্ছে চট্টগ্রাম। এখানে দেশের সর্ববৃহৎ বন্দর ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এটি এশিয়ায় ৭ম এবং বিশ্বের ১০ম দ্রুততম ক্রমবর্ধমান শহর।

চট্টগ্রাম এর ফ্লাইওভার গুলো –

চট্টগ্রাম শহরের জনসংখ্যা ২,৫০,০০০ জনেরও বেশি এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জনসংখ্যা ৪,০০৯,৪২৩ জন। প্রতিদিন নানান মানুষ তাদের নানান কাজ এ বেড়িয়ে পড়ে। যার যার জীবিকার তাগিদে সে সে কাজে নেমে পড়ে। এতো এতো মানুষের যাতায়াত হয় সড়ক দ্বারা। তাই এতে জ্যাম লাগা স্বাভাবিক ব্যাপার। এইজন্য জনগণের সুবিধার্থে তৈরি করা হয় কয়েক টি ফ্লাইওভার। মোট ৪ টি ফ্লাইওভার আছে চট্টগ্রাম এ।

 

🔸বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার

🔸কদমতলী ফ্লাইওভার

🔸দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার

🔸আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার

 

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো “আখতারুজ্জামান বাবু ফ্লাইওভার”। আসুন জেনে নেয়া যাক কে ছিলেন আখতারুজ্জমান বাবু-

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু –

আসুন সবার আগে ” আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু” কে নিয়ে কিছু কথা জেনে আসি। তিনি ছিলেন মহান একজন নেতা,সমাজসেবক এবং ব্যবসায়ী। তার আদর্শে আদর্শিত হয়েছিলো গোটা শহর। তিনি এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যার সাথে কেউ চললেও তারা সেটা নিজের সৌভাগ্য মনে করতো। আখতারুজ্জামান সাহেব এর মতো মানুষ পাওয়া আজকাল এর দুনিয়ায় বড়ই কঠিন। একজন আদর্শ নেতা হিসেবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী যা যা করে গেছেন তা কখনোই ভুলার মতো নয়। সাহসী, শক্তিশালী এবং বিচক্ষণীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এই ব্যক্তিকে কখনোই কেউ ভুলতে পারবেনা।

জন্ম ও পরিবার –

আনোয়ারা হাইলধর গ্রামে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ১৯৪৫ সালের পহেলা মে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এই ছোট্ট ছেলেটি যে একদিন গরিবের সাথী হবে এবং বাংলা কে করে তুলবে গর্বিত তা কেউ কল্পনাও করেনি তখন। আইনজীবী এবং তার পাশাপাশি নিজের অঞ্চলের জমিদার ছিলেন তার পিতার নুরুজ্জামান চৌধুরী, তার মাতার নাম খোরশেদা বেগম, যিনি ছিলেন একজন গৃহিনী। ধনী পরিবারের সন্তান মোঃ আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছোট থেকেই সুশিক্ষায় বড় হয়েছেন। তার বাবা-মা যথেষ্ট আদব কায়দা শিখিয়ে বড় করেছিলেন তাকে। মা-বাবার আদরের আড়ালেই বড় হয়েছেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।

ব্যক্তি বা সাংসারিক জীবন –

ব্যক্তি জীবনে ৪ কন্যা ও ৩ পুত্র সন্তানের জনক তিনি।

তিনি বাংলাদেশের সনামধন্য শিল্পপতি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর উপজেলার মরহুম আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর দ্বিতীয় কন্যা “নুর নাহার জামান” এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার ছেলে-মেয়ের নাম গুলো হলো – সাইফুজ্জামান চৌধুরী, আসিফুজ্জামান চৌধুরী, আনিসুজ্জামান চৌধুরী, রোকসানা জামান চৌধুরী, আফরোজা জামান চৌধুরী, ফারহানা জামান চৌধুরী এবং নিনা কাওড়াজাকি জামান চৌধুরী. পরিবার নিয়ে বেশ সুখেই ছিলেন মহান এই নেতা। নিজের সন্তানদের পারিবারিক আদর্শ শিক্ষা দিয়ে করে তুলেছিলেন প্রতিষ্ঠিত। পরিবারের প্রতি সর্বদা ভালোবাসা ও মায়া প্রকাশ করে থাকতেন তিনি। একজন আদর্শ বাবা এবং স্বামী হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালন করেছিলেন।

চৌধুরী বাবু’র শিক্ষাজীবন –

১৯৫৮ সালে তিনি পটিয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। একই বছর তিনি ঢাকার সুপ্রতিষ্ঠিত নটরডেম কলেজে ভর্তি হন। পড়ালেখা জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, তাই চৌধুরী বাবু উচ্চমানের শিক্ষা অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী একজন ছাত্র। পড়ালেখার প্রতি তার আগ্রহ ছিলো বিধায় ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে পড়ার সময় তিনি বৃত্তি পেয়েছিলেন এতে তিনি আমেরিকার ইলিনয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে ভর্তি হন। তারপরে তিনি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে বিজসেন এডমিনিষ্ট্রেশনে নিজের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ায় ভালো মতো পড়ালেখা শেষ করে গর্ব এবং এক রাশ আদর্শ সহিত ওখান থেকে এসোসিয়েট ডিগ্রি নিয়ে নিজের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ এ ফিরে আসেন ১৯৬৪ সাল এর ডিসেম্বর মাস এ।

রাজনীতি শুরু-

পড়ালেখে শেষ করে দেশে ফেরার পর তিনি তার বড় ভাইয়ের সাথে ব্যবসায় যোগদান করেন ১৯৬৫ সালে।

তিনি মাধ্যমিক এ পড়াকালীন সময়েই ১৯৫৮ সালে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। নিজের দেশের প্রতি ছিলো তার এক রাশ টান। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ১৯৫৮ সাল থেকেই শুরু হয়েছিলো তার রাজনৈতিক জীবন। তিনি তার যৌবনকাল থেকেই রাজনীতিকে ভালোবাসতেন। তার পড়ালেখা শেষ করে বড় ভাইয়ের সাথে ব্যবসা করতে করতে তিনি আবারো যুক্ত হয়ে যান রাজনীতি তেই। কারণ মনেট টান তো আর কমানো যায় না সহজে। যে যেই জিনিসে নেশাভূক্তি ভাগ্য তাকে সেই জিনিসেই টেনে নিয়ে আসে। তাই তিনি ১৯৬৭ সালে যোগ দেন বাংলাদেশ এর সুপ্রতিষ্ঠিত এবং স্বনামধন্য লীগ “আওয়ামী লীগ” এ। এরপর থেকে শুরু হয় স্থায়ীভাবে “আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু”র রাজনৈতিক জীবন এর পথচলা। ১৯৭০ সালে “আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু” সাধারণ নির্বাচনে পশ্চিম পটিয়া এবং আনোয়ারা থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই ছিলো তার রাজনৈতিক যাত্রার শুরু।

তাছাড়া ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি হাইলধর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বাধীনতার পরেও তিনি হাইলধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং থানা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের আগমন –

হঠাত বাংলার বুকে নেমে এলো মহা এক ঘন আধার। সময় এসে পড়লো, বাংগালীদের লড়াই করে নিজের দেশ স্বাধীন করার। ১৯৭০ সালে “আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু” সাধারণ নির্বাচনে পশ্চিম পটিয়া এবং আনোয়ারা থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ঠিক এক বছর পর শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের এই যুদ্ধে মারা গিয়েছিলো আমাদের বাংলার হাজারো যুবক, যুবতী, তরূন, তরুণী। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইজ্জত নিয়ে খেলেছিলো আমাদের মা-বোনের। আমাদের বাংগালি দের উপরে চালিয়েছিলো নির্মম অত্যাচার। তো এই নির্মম অবস্থায় প্রয়োজন ছিলো মজবুত এবং সাহায্যের হাতের। ঠিক তখনই যুদ্ধের নির্মম পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম এর গর্বিত সন্তান “আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু”।

মুক্তিযুদ্ধে চৌধুরী বাবুর সাহায্যের হাত-

জাতির পিতা এবং জাতির নেতা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রাম এ আসার পরে আখতারুজ্জামান এর জুপিটার হাউজ থেকে তা সাইক্লোস্টাইল করে প্রচার করা হয়। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু’র নিজ বাসভবন থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ সব জায়গায় পাঠানো হয় স্বাধীনতার ঘোষণা। যখন মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে অসহযোগ আন্দোলন চলছিলো তখন আখতারুজ্জামান চৌধুরী সংগ্রাম কমিটির কর্মকান্ড পরিচালনা করতেন তার পাথরঘাটাস্থ জুপিটার হাউজ থেকে, এই কথা টি জানানো হয়েছিলো দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের এক বিবৃতিতে। ১৯৭১ সাল এর মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন আমাদের এই সাহসী নেতা আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।

মুক্তিযুদ্ধে তার উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম –

এই মহাযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আখতারুজ্জামান নিজেকে সক্রিয় রাখেন বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম এ। দেশের প্রতি মায়া, ভালোবাসা এবং দেশভক্তি ছিলো বলেই তিনি যোগদান করেছেন শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহসী দল এ। একজন মানুষ তার দেশের জন্য কতোটুকুই করতে পারে? যতোটুকুই পারে ততোটুকুই ইতিহাসের পাতায় দাখিল হয়ে থাকে। আমাদের মহান এই নেতা ঠিক সেটাই করেছেন যেন পুরো বিশ্ব তাকে মনে রাখে তার সাহসী সুকর্মের জন্য। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি এখানে নিজের সেরা টা করে দিয়ে উড়াল দেন ওপার বাংলা ভারত এ। সেখানে গিয়ে তিনি পালন করেন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দ্বায়িত। তিনি নিজে তো সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন ই, তাছাড়া বিশ্বের মানুষের সাথে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি বিলেত এ পাড়ি দেন এবং সফর করেন ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল গুলোতে। তিনি সর্বপ্রথম লন্ডনে যান। সেখান থেকে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে আমেরিকায় চলে যান আখতারুজ্জামান। বিভিন্ন ভালো কর্মকান্ডের মাঝে তিনি পাশাপাশি ছিলেন মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির একজন সৎ এবং আদর্শ সদস্য। মুক্তিযুদ্ধে প্রয়োজন ছিলো নানান সাহায্যের হাতের, আর এই মহান মানুষ টি নিজের সাহায্যের হাত টাই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সঠিক সময়ে।

যুদ্ধের পরিসমাপ্তি –

অবশেষে আমাদের দেশের সাহসী লড়াই এর কাছে হার মানে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। পাকিস্তান সরকার নিজেদের হার মেনে নেয় আমাদের বাংলাদেশ সরকার এর কাছে। ১৬ই ডিসেম্বর,১৯৭১ সাল ছিলো আমাদের দেশ সহ বাহিরের দেশেও এক ঐতিহাসিক দিন।

মুক্তিযুদ্ধের পর-

এরপর আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ১৯৭২ সালের সংবিধানের অন্যতম সংস্কারকারী ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই পরিপেক্ষিতেই আখতারুজ্জামান চৌধুরী ১৯৭২ সালে গঠিত বাংলাদেশ গণ পরিষদের সদস্য হন এবং বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে বেশ ভালো ভূমিকা রাখেন।

মুজিব হত্যার পর আখতারুজ্জামান –

এরপর তার ঠিক ৩ বছর পর বাংলার মাটিতে আসে লাখো কান্নার ঢেউ। ১৯৭৫ সালে হত্যা করা হয় বাংলার মহান নেতা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। এতে কার ই বা কষ্ট না লাগবে। মানুষটি দেশ কে স্বাধীন করে নিজেই চিলে গেলেন ওপারে। এতে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং পরবর্তী তে দলের পুনরুজ্জীবন ও পুনর্গঠনে সাহসী ভূমিকা পালন করেন।

আওয়ামী লীগের সংগঠন-

একজন সৎ ও আদর্শবান রাজনীতিক ও সমাজ সেবকের যেসব গুণাবলি থাকা উচিত তার সবই আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মধ্যে ছিল। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন পা থেকে মাথা পর্যন্ত একজন খাটি দেশপ্রেমিক, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার পথে তিনি ছিলেন একজন মাঠের দক্ষ কর্মী। তিনি ছিলেন একজন দেশ প্রেমিক এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলা বির্নিমান ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য। চট্টগ্রামে আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা ছিলেন তিনি, ১৯৭৫ সাল পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগেকে সংগঠিত করতে তার অবদান অপরিসীম।

সমাজসেবা –

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু করেছিলেন বিভিন্ন সামাজিক কর্ম। একজন মানুষ দেশ ও জাতির জন্য এতো কিছু করেছেন, তাহলে তিনি দুস্থ, গরিব বা নিজের গ্রামের কল্যাণে কিছুই করেন নি? তিনি কি ট্রাস্ট বা ডোনেশন কিছুই করেন নি? অবশ্যই করেছেন তিনি৷ বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পালন করেছেন তিনি। আনোয়ারা ডিগ্রী কলেজ, হাইলধর বশরুজ্জামান স্মৃতি শিক্ষা কেন্দ্র, বরুমছড়া শহীদ বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, আনোয়ারা যুগেস চন্দ্র মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, ঝি.বা.শি উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরো অনেক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। বটতলী মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রী কলেজ, চন্দনাইশ বরমা কলেজ, এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ, এ.জে.চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ, রায়পুর উপক‚লীয় উচ্চ বিদ্যালয়সহ আনোয়ারা পশ্চিম পটিয়ার ও চট্টগ্রামে অনেক স্কুল কলেজের প্রতিষ্ঠাতাদাতা সম্মানিত সদস্য তিনি। চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়ার বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং সফভাবে তা প্রতিষ্ঠা ও করেন তিনি। এছাড়াও বহু জনহিতকর কাজের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি।

মৃত্যু ও তার স্মৃতিতে ফ্লাইওভার-

২০১২ সাল এর ৪ ই নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে কিডনিজনিত জটিলতায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সাহসী এবং আদর্শ এই নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। তার মৃত্যুর পর তাকে সম্মান জানিয়ে উদ্যেগ নেওয়া হয় তার নামে একটি ফ্লাইওভার স্থাপিত করার।

২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর নগরীর মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত চার লেনের আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের মার্চে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বহু প্রতীক্ষিত ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ আক্তারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার ২০১৭ সাল এ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিলো।

ফ্লাইওভার এর রুট ও প্রকল্প পরিচালক-

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী সড়কের বেবি সুপার মার্কেট সংলগ্ন অংশ থেকে শুরু হয়ে লুপটি ফ্লাইওভারের সিডিএ এভিনিউ’র সিঅ্যান্ডবি কলোনি অংশে গিয়ে যুক্ত হয়েছে।

এই লুপ ব্যবহার করে বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক ধরে আসা যানবাহন ফ্লাইওভার হয়ে লালখান বাজারমুখী হয়ে চলাচল করতে পারবে।

তবে ভারি যান চলাচল বন্ধ করতে লুপের শুরুতে লোহার কাঠামো দিয়ে প্রতিবন্ধকতা দেওয়া হয়েছে।

এই লুপ দিয়ে ট্রাক, কভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে আবদুচ ছালাম বলেছিলেন, “মূল সড়ক থেকে লুপের (উড়াল সড়কের সাথে অন্য রাস্তার সংযোগ) সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ৮০ ফুট। তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। উন্মুক্ত হল আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের হাজার মিটার দীর্ঘ লুপ

“নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ ধরনের ভারি গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হবে না। অন্য সব গাড়ি চলবে।”

২৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি ‘লুপস’- এর নির্মাণ কাজও করা হয়েছিলো। ফ্লাইওভারের প্রথম অংশটি বহদ্দারহাট পয়েন্ট থেকে ষোলশহর দুই নম্বর গেট পর্যন্ত, দ্বিতীয় অংশটি ষোলশহর দুইনম্বর গেট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত এবং তৃতীয় অংশটি জিইসি মোড় থেকে ওয়াসা মোড় পর্যন্ত।

নগরীর প্রথম বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারটি আক্তারুজ্জামান চৌধুরী (মুরাদপুর-লালখান বাজার) ফ্লাইওভারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে, যা নগরীর ব্যস্ততম এলাকাসমূহের যানজট কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেছিলেন প্রকল্প পরিচালক।

খরচ ও ফ্লাইওভার এর গুরুত্ব –

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ৬৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ফ্লাইওভার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছিলো। বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা এবং দলের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর নামে মুরাদপুর-লালখান বাজার ফ্লাইওভারটির নামকরণ করা হয়েছে। ফ্লাইওভার রানিং হওয়ার পর থেকে জনগণ রক্ষা পেয়েছে জ্যামযট বা ট্রাফিক এর অসুবিধা থেকে। মহান এই নেতার নামে তৈরি ফ্লাইওভার আজ হ্রাস করলো হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ।

 

—————————————————————————————————————————-

Add Your Comment