পৃথিবীতে এমন অনেক মহান মানুষ আছেন যারা কখনোই ধনী-গরীব, জাত-পাত, গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ইত্যাদি এসব নিয়ে কখনোই ভেদাভেদ করতেন না। তারা সবাই ছিলেন মানবধর্মে বিশ্বাসী। মানবধর্ম ই যেন ছিল তাদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাদের প্রধান উদ্দেশ্যই যেন ছিল মানুষের সেবা করা, সবাইকে সাহায্য করা, সমাজকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া এবং খাটি মনে দেশ, সমাজ ও জাতির জন্য কিছু করা। তারা সাহায্য করার সময় ধনী-গরিব দেখতেন না। তারা কখনোই গরিবদের ছোট চোখে দেখতেন না তাই তাদেরকে গরিবের মাসিহা বলা হয়।

খাটি মন থেকে সেবা করতেন জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু

পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের উদাহরণ আজও সবার মুখে মুখে রটে যাচ্ছে। পোপ ফ্রান্সিস, মাদার তেরেসা, হেলেন কেল্লার, মহাত্মা গান্ধী জি, তেরেসে অব লিজিয়াক্স সহ আরো অনেক মহান মানুষ দুনিয়াতে শুধু শান্তি চেয়েছেন, সাহায্য করে সবার মুখে হাসি ফুটাতে চেয়েছিলেন তারা এবং তারা তাদের কাজে সক্ষম ও হয়েছিলেন। সৃষ্টির সেবা করা সব ধর্মেই রয়েছে। আপনি যদি কোন সৃষ্টি কে সাহায্য করেন বা যত্ন করেন তাহলে আপনার সৃষ্টিকর্তা আপনার উপর সন্তুষ্ট হবে। ধরুন আপনার প্রচুর ধন-সম্পদ রয়েছে তো এত ধন সম্পদ আপনি কি একাই উপভোগ করবেন? না, আপনি করতে পারবেন না কারণ আপনার এই ধন-সম্পদের উপর সমাজের গরিবদের ও যথেষ্ট অধিকার রয়েছে। তাই সৃষ্টিকর্তা যখন আপনাকে যথেষ্ট ধন-সম্পদ দিবেন তখন একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য হয়ে ওঠে যে আপনিও সমাজে গরিব-দুঃখীদের দিকে ফিরে তাকাবেন, তাদেরকে খাটি মন থেকে সাহায্য করবেন। আমরা অনেক সময় শুনতে পাই বা দেখতে পাই যে বড় বড় বিত্ত ব্যক্তিগণ ডোনেশন করছেন, সাহায্য করছেন গরিবদের এবং চ্যারিটিও করছেন। কিন্তু আপনি কি বলতে পারবেন কয়জনই বা এই ডোনেশন অথবা চ্যারিটি মন থেকে করেছেন? তাই আপনি যখনই কাউকে সাহায্য করবেন তখন খাঁটি মন থেকে করতে হবে যেমনটা ছিলেন বাংলাদেশের প্রিয় নেতা এবং রাজনীতিবিদ জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। তিনি যখনই কোনো কিছু করতেন, খাটি মন থেকে করতেন।

কেনো সবাই আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে এতোটা ভালোবাসে?

জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর কাছে যেই সাহায্য চাইতে আসতো, তিনি কখনো তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না। তিনি নিজের সমাজকে এবং সমাজের মানুষদের নিয়ে নিজের থেকে বেশি ভালোবাসতেন। সমাজের মানুষ টি গরীব হোক কিংবা বড়লোক তাতে তার কোন সমস্যা নেই। তার একটাই লক্ষ্য উদ্দেশ্য ছিল সবাইকে সমান চোখে দেখা, ভেদাভেদ না রেখে সাহায্য করা এবং সবার বিপদে পাশে দাঁড়ানো। ধনী-গরীব জাতপাত ধর্ম বর্ণ গোষ্ঠী ইত্যাদি এসব কে দূরে ঠেলে খাঁটি মনে সবাইকে সমান চোখে দেখে জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সাহায্য করতেন সবাইকে। কেননা তিনি ছিলেন খাঁটি মনের একজন মানুষ এবং খাঁটি মনের মানুষগণ কখনোই এসব নিয়ে ভেদাভেদ করতে পারেনা। 

সমাজের জন্য সম্পাদন করা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ভালো কিছু কর্ম

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু একজন সমাজহিতৈষী, দানবীর ও জনদরদী ছিলেন। ১৯৬৭ সাল থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু হাইলধর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বাধীনতার পরেও তিনি হাইলধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং থানা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সব মিলিয়ে ভালোই ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন এই নেতা। নিজের ভাল কর্মের দ্বারা জনগণ থেকে ভোট পেয়ে লাগাতার বিভিন্ন রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করে গিয়েছিলেন। তিনি রাজনীতির যে পোস্টেই ছিলেন না কেন, জনগণের সেবা করতে তিনি কখনই পিছপা হননি। জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। অর্থ ও ধন সম্পদের অভাব ছিলো না তার। একজন ধনাঢ্য পরিবারের হয়েও চৌধুরী বাবুর ভেতরে ছিল না কোন অহংকার এবং গর্ব। নিজের ব্যক্তিগত ধন সম্পদের ব্যবহার করে এবং নিজের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি তার সমাজের মানুষদের খুব সহজেই হতে পেরেছিলেন।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়ার বহু মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। আনোয়ারা ডিগ্রী কলেজ, হাইলধর বশরুজ্জামান স্মৃতি শিক্ষা কেন্দ্র, বরুমছড়া শহীদ বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, আনোয়ারা যুগেস চন্দ্র মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, ঝি.বা.শি উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরো অনেক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। বটতলী মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রী কলেজ, চন্দনাইশ বরমা কলেজ, এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ, এ.জে.চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ, রায়পুর উপক‚লীয় উচ্চ বিদ্যালয়সহ আনোয়ারা পশ্চিম পটিয়ার ও চট্টগ্রামে অনেক স্কুল কলেজের প্রতিষ্ঠাতাদাতা সদস্য। এছাড়াও বহু জনহিতকর কাজের সাথে জড়িত ছিলেন জননেতা জনাব মোঃ আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।

Add Your Comment