আখতারুজ্জামান চৌধুরীরা কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের অন্তরে বেঁচে থাকে চিরকাল

 

ভূমিকা

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর একজন অন্যতম মুখ্য রাজনীতিবিদ, বাঙালির সম্মান ও গৌরব বৃদ্ধিতে যিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক এবং চট্টগ্রাম -১২ আসনের প্রতিনিধিত্বকারী সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য । বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহ সার্বিক অঙ্গনে তার অবদান অসামান্য।

যাদের জীবন শুধু সংগ্রামের, ত্যাগের, যারা দিতে জানে বিনিময়ে কিছু নিতে জানে না, সে রকম একজন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। প্রকৃত  অর্থে তারাই মানুষ, যাদের অনুসরণ করলে প্রকৃত মানুষ হওয়া যায়। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন প্রকৃত  মানুষ এর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন এক অন্যতম ত্যাগী নেতা, যিনি সারা জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বিশেষ অবদানের জন্য তিনি খ্যাত। বাংলাদেশ এর রাজনৈতিক অঙ্গনে, মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক পরিচালনায়, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্পায়নে, ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে এবং সমাজকল্যানমূলক কাজে তাঁর সমূহ অবদান রয়েছে।

 

প্রাথমিক জীবন

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু  ১৯৪৫ সালের ৩মে জন্মগ্রহণ করেন।  চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবার নাম নুরুজ্জামান চৌধুরী পেশায় তাঁর বাবা ছিলেন একজন আইনজীবী এবং জমিদার।  তাঁর মাতার নাম খোরশেদা বেগম। অত্যন্ত অভিজাত ও ধনী পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর শৈশব এবং কৈশর চট্টগ্রামে  অতিবাহিত হয়। ১৯৫৮ সালে তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশংসাপত্র অর্জন করেন। একই বছরে তিনি  ঢাকার নটর ডেম কলেজে  ভর্তি হন। কলেজে পড়াশুনা চলাকালীন তিনি  বৃত্তি অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্রের   ইলিনয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে স্থানান্তরিত হন।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা প্রশাসনে থেকে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর ১৯৬৫ সালে বড় ভাইয়ের সাথে ব্যবসায় যোগ দেন। অল্প বয়সেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সংশ্লিষ্ট হতে শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন।  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত থেকে যুবক বয়স হতেই তিনি রাজনীতি ও দেশের সেবায় নিজেকে সমর্পন করেন। বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনেও তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

 

স্মরণীয় কীর্তি

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু  বাংলাদেশের বিবিধ অঙ্গনে স্মরণীয় কীর্তি রেখে যাওয়া একজন ব্যক্তি। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের আগে থেকেই তিনি রাজনৈতিক  কাজে সংশ্লিষ্ট থেকে দেশের উন্নতি ও সেবার পথে কাজ করে যান। ১৯৬৭ সালে তিনি আওয়ামী লীগের নীতিগত সমিতিতে যোগদান করেন।  এরপর ১৯৭০ সালের তিনি আনোয়ারা পশ্চিম পটিয়া উপজেলার আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হনসুতরাং, তখন থেকেই দেশের সেবায় পদার্পণ করেন। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান তাঁকে একজন মুক্তিযোদ্ধার সমতুল্য করেছে।

এরপর, দেশ স্বাধীনের পর, নানা বাঁধা বিপত্তিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে তিনি বিশেষ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। চট্টগ্রামের খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ হয়ে চট্টগ্রাম ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে, ব্যবসা বানিজ্যে ও দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি দেশের সাধারণ জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীগন সকলের কাছেই অপরিসীম সম্মান এর পাত্র। সমাজকল্যানে তাঁর বিচরণ রাজনীতিরও উর্ধ্বে।  তিনি দেহত্যাগ করলেও তাঁর কীর্তির মাঝে দিয়ে তিনি বাংলার মানুষের বুকে বেঁচে থাকবেন চিরকাল। দেশের বিবিধ ক্ষেত্রে তাঁর রেখে যাওয়া কর্ম ও অবদান নিয়েই আজকের প্রবন্ধ।

 

রাজনৈতিক জীবনে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এর অবদান

আখতারুজ্জামান চৌধুরী ১৯৫৮ সালে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে প্রথম আওয়ামী লীগের প্রধান কমিটিতে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের পশ্চিম পটিয়ার আনোয়ারা উপজেলার প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। আশির দশকে  স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে প্রবল ভূমিকা এর ফলে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে  কারাগারে নির্যাতন ভোগ করতে হয়।

১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ সাংবিধানিক কাউন্সিলের সদস্য হনসুতরাং, বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন এও  তাঁর ভূমিকা অন্যতম।  ১৯৭২ সালের সংবিধানের স্বাক্ষরকারীদের মাঝে তিনি একজন ছিলেন। স্বাধীনতার পর আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত থেকে তিনি পরিশ্রম এবং অপরিমেয় ত্যাগ এর সাথে দায়িত্ব পালনে ব্রত ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলে, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দলের আভ্যন্তরীণ  যোগাযোগ রক্ষার অত্যন্ত সাহসী ও ঝুকিপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।  তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপ আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য  ভূমিকা রেখেছিল।

নবম জাতীয় সংসদে তিনি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রন সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। স্বাধীনতার পর জেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অত্র এলাকার রাজনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নে সমূহ অবদান রাখেন। তাঁর রাজনৈতিক ধারা ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বলিয়ান। রাজনীতিকেই তিনি বৃহত্তর মানব কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে উচ্চপদ অথবা ক্ষমতার লোভ লালসা তাঁকে কখোনই স্পর্শ করতে পারেনি, যার ফলে তিনি সততার এক অন্যন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছেন।

 

 

মুক্তিযুদ্ধে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এর অবদান

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে আখতারুজ্জামান চৌধুরী অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভিক কালে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন যুদ্ধ কমিটির সমস্ত কার্যক্রম পাথরঘাটায় তাঁর জুপিটার হাউজ থেকে পরিচালিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রামে আসার পর তার  জুপিটার হাউজ  থেকে সাইক্লোস্টাইল করা হয়। তারপর তাঁর বাসা থেকে এই ঘোষনা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ সর্বত্র পাঠানো হয়।  মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির সদস্য এর ভূমিকা পালন করেন।

 মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে যেয়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলাদেশী শরণার্থীদের ভরন পোষণ এবং স্থানসংকুলান সংক্রান্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার অভিমুখে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইউরোপ এবং আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করেন। প্রথমত তিনি লন্ডনে যান। পরবর্তীতে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে আমেরিকায় ভ্রমন করেন। তাঁকে স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সাহসী যোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

 

দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতিতে আখতারুজ্জামান চৌধুরী  বাবু এর অবদান

 কেবল রাজনীতিতেই নয়, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দেশের একজন সফল ব্যবসায়ী শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মুখপাত্র ও ব্যবসায়ীক নেতা হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিল্পপতি এবং শিল্পোদ্যোক্তা।

স্বাধীনতার আগে চট্টগ্রাম নগরীর বাটালি রোডে বয়েল ইন্ডাস্ট্রি নামে একটি কারখানা তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। সাথে বড়ভাই এর কারখানা এর দেখভাল এর দায়িত্বও পালন করতেন। সুতরাং, পেশাগত জীবনের শুরু হতেই ব্যবসায় শাখায় তাঁর দক্ষতা ছিল। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের সভাপতি থাকা অবস্থায় তিনি পুর্বের অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তার মাঝে  আসিফ স্টিল মিল, জাভেদ স্টিল মিল, আসিফ সিন্থেটিক, পানাম ভেজিটেবল, আফরোজা অয়েল মিল, বেঙ্গল সিনথেটিক পণ্য সহ বেশকয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। স্বাধীনতার পর তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক হিসাবে কাজ করেছেন।

তিনি একটি বিদেশি মালিকানাধীন আরমিট মিল ক্রয় করেন এবং পরবর্তীকালে সেটিকে সুদৃঢ় ভিত্তিতে রুপ দেন। এছাড়াও তিনি ভ্যানগার্ড স্টিল মিল এবং সিনথেটিক রজন পণ্য কিনে স্বাধীনতার পরে প্রথম দুই দশকে জামান ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপ এর গোড়াপত্তন  করেন। তিনি দুই বার চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি শীর্ষ ব্যবসায়িক সংস্থা এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হন ১৯৮৮ সালে। ওআইসির চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে তিনি ৭৭ জাতি গ্রুপের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এই আন্তর্জাতিক সংস্থার মর্যাদাপূর্ণ সহ-সভাপতি পদে তিনিই একমাত্র বাংলাদেশী। দেশের ব্যবসায়ী সমাজের মুখপাত্র হিসেবে তিনি ভূমিকা রেখেছেন।

 

 

ব্যাংকিং অর্থায়নে আখতারুজ্জামান চৌধুরীর বাবু এর অবদান

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু বাংলাদেশ এর বহুবিধ শাখায় উন্নয়নের সোপান উন্মোচন করেছেন। বাংলাদেশের বেসরকারী ব্যাংকিং খাত প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা অসামান্য।  বাংলাদেশের দ্বিতীয় বেসরকারী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ছিল আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন এর নিজের প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছিলেন এর উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।  ২০১১ সালে আবারও ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং আমৃত্যু এই পদে বহাল থেকে দেশের বেসরকারি ব্যাংকিং সেক্টর পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন। 

 

সমাজকল্যানে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এর অবদান

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু শুধু একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, সাথে ছিলেন এক বিশেষ সমাজসেবী এবং আলোকিত মানুষ। একজন দক্ষ ও আদর্শবাদী রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী হওয়ার জন্য যে দক্ষতা ও গুনাবলি তাঁর আয়ত্তে ছিল।  নীতি ও নৈতিকতা ছিল তাঁর আদর্শ। তাঁর সততা, আদর্শ ও নৈতিকতা তাঁকে বাংলার মানুষের মনে আজীবন বাঁচিয়ে রাখবে। তিনি অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও তিনি রাজনীতির পথ বেছে নেন দেশ ও দশের সেবা করার লক্ষ্যে। দেশ ও জনগণ এর সেবকের চূমিকা পালনের জন্য নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসাবে পরিচয় দিতে তিনি বেশি পছন্দ করতেন ।

আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক, যার রাজনৈতিক পেশায় প্রবেশের লক্ষ্যই ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার স্বপ্ন পুনর্নির্মাণ। বাংলাদেশে একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ এর প্রতিমা তিনি। অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ জীবনযাপন তাঁকে জনসাধারণ এর অনেক কাছাকাছি নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।

তাঁর জীবনযাপন ছিল অতি সাধারণ।  প্রায়শই তাঁকে সরকারী সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যতীত পথচারন করতে দেখা যেত। তিনি।  চট্টগ্রামের জনসাধারণ এর জন্য তিনি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সমাজসেবায় তাঁর বিশেষ অবদানের জন্যে তিনি রাজনীতিবিদ এর চেয়ে বরং সমাজসেবী হিসেবে জনসাধারণ এর কাছে বেশী পরিচিত।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু তাঁর প্রশাসনিক অঞ্চলে তিনি বহু দাতব্য কাজেও জড়িত ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চট্টগ্রাম অঞ্চলে। আনোয়ারা উপজেলা এবং চট্টগ্রামের পশ্চিম পটিয়ায় স্কুল এবং কলেজ ও তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ, হাইলধর বশিরুজ্জামান স্মৃতি শিক্ষা কেন্দ্র, বরুমচড়া বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, আনোয়ারা যুগেস চন্দ্র মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, ঝি.বা.শি উচ্চ বিদ্যালয় ,বটতলী মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ, চন্দনাইশ বরমা কলেজ, এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ, এ.জে.চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ, রায়পুর উপকূলীয় উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও অনেক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের বেকারত্বের হার হ্রাস করতে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। জনসেবামূলক কাজে অতুলনীয় অবদানের জন্য তাঁকে চট্টগ্রামের অভিভাবক হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

 

 আদর্শবোধ যা তাঁকে অমর করেছে

 আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু বাংলাদেশের একজন অন্যতম আদর্শ রাজনীতিবিদ। দেশ, দেশের জনগণ এবং দলের প্রতি তাঁর অকুণ্ঠ দায়িত্ববোধ তাঁকে সত্যকার অর্থেই একজন মহাপুরুষ এর সমপর্যায়ে নিয়ে গেছে  বিভিন্ন সংকটময় মূহুর্তেও দলীয় আদর্শে ছিলেন দৃঢ়।একজন সৎ ও আদর্শবান রাজনীতিক ও সমাজসেবকের যেসব থাকা উচিত, তার সমস্তই আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মধ্যে ছিল। সৃষ্টিকর্তা মানুষ সৃষ্টি করেছেন একে অপরের কল্যানের জন্য। তিনি তার সৃষ্টির উদ্দেশ্য সফলতার সাথে সম্পাদন করেছেন।

সমস্ত লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়  অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে নির্মাণের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। তাই জীবনে অনেকবার মন্ত্রিত্বের সুযোগ পেয়েও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হননি। অত্যন্ত দূরদর্শী ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ছিলেন বলেই এত দীর্ঘসময় ধরে তাঁর পদের মর্যাদা বজায় রাখতে পেরেছেন। সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দেশের সকল রাজনীতিবিদ এর জন্য আদর্শস্বরূপ।

 

শেষকথা

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, বাংলার মহান নেতা আর আজ আমাদের মাঝে নেই। না থেকেও তিনি বাংলার মানুষের মনে অমর, তাঁর অর্থপূর্ন জীবন ও কীর্তি তাঁকে আজীবন আমাদের মানে জাগ্রত রাখবে।

 

 

 

Add Your Comment